০৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাঁচবিবিতে ইউপি নির্বাচনের হাওয়া৷৷ প্রচারণায় আলোচনায় জামায়াতের শাহাদাৎ হোসেন এবাদত

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 16

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ১নং বাগজানা ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ শাহাদাৎ হুসাইন এবাদত। প্রতিদিন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাট-বাজারে গণসংযোগ, মতবিনিময় এবং পথসভা করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য—”ন্যায়, ইনসাফ, সততা, স্বচ্ছতা ও জনকল্যাণ।”
গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন, তাঁদের সুখ-দুঃখের কথা শুনছেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে মতামত গ্রহণ করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় তিনি একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “বাগজানা ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ আমার কাছে সমান। নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করব। ইউনিয়ন পরিষদ হবে জনগণের আস্থার ঠিকানা, সেবাকেন্দ্র এবং জবাবদিহিতার প্রতিষ্ঠান।”

চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ শাহাদাৎ হুসাইন এবাদত জানান, নির্বাচিত হলে তিনি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। রাস্তাঘাট, বীজ-কালভার্ট নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষি ও সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বেকার যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, “সরকারি বরাদ্দ, ভিজিএফ, ভিজিডি, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।” সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বাল্যবিবাহমুক্ত করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত:
মোঃ শাহাদাৎ হুসাইন এবাদত জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ১নং বাগজানা ইউনিয়নের কুটাহারা গ্রামের সরদারপাড়ার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোঃ মিজানুর রহমান এলাকায় একজন সৎ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

তিনি ঘোড়াপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পরে বাগজানা আছিরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। এরপর দিবাকরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এবং ২০১২ সালে হাকিমপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শিক্ষাজীবনে বিঘ্ন ঘটে। তবে তিনি থেমে থাকেননি; পরবর্তীতে জয়পুরহাট সরকারি কলেজ থেকে ২০১৯ সালে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স (বিএসএস) ডিগ্রি অর্জন করেন।

নিজের রাজনৈতিক ও আদর্শিক জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার ইসলামী মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, মানবসেবা ও ইনসাফের শিক্ষা ইসলামী ছাত্রশিবির থেকেই পাওয়া। কৈশোর ও যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে ছাত্রশিবির আমাকে চরিত্র গঠন, নেতৃত্ব এবং মানুষের জন্য কাজ করার শিক্ষা দিয়েছে।”

তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং সর্বশেষ বাগজানা ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ঘুষ ও অর্থ লেনদেনের সংস্কৃতির সঙ্গে আপস না করে তিনি ব্যবসাকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন।

তিনি বলেন, “হারাম উপার্জন থেকে নিজেকে দূরে রাখার অঙ্গীকার নিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে ব্যবসা শুরু করি। মহান আল্লাহ আমাকে হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, এজন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।”

২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগজানা ইউনিয়ন শাখার সহকারী সেক্রেটারি এবং যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা একজন সৎ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি প্রত্যাশা করছেন। অনেকের মতে, যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে বাগজানা ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নেবে।

জনপ্রিয়

ক্ষেতলালে প্রেমিকের বাড়িতে এক সন্তানের জননীর অবস্থান ৷৷ বিয়ের দাবিতে আত্মহত্যার হুমকি

পাঁচবিবিতে ইউপি নির্বাচনের হাওয়া৷৷ প্রচারণায় আলোচনায় জামায়াতের শাহাদাৎ হোসেন এবাদত

প্রকাশের সময় : ০৭:৪১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ১নং বাগজানা ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ শাহাদাৎ হুসাইন এবাদত। প্রতিদিন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাট-বাজারে গণসংযোগ, মতবিনিময় এবং পথসভা করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য—”ন্যায়, ইনসাফ, সততা, স্বচ্ছতা ও জনকল্যাণ।”
গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন, তাঁদের সুখ-দুঃখের কথা শুনছেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে মতামত গ্রহণ করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় তিনি একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “বাগজানা ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ আমার কাছে সমান। নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করব। ইউনিয়ন পরিষদ হবে জনগণের আস্থার ঠিকানা, সেবাকেন্দ্র এবং জবাবদিহিতার প্রতিষ্ঠান।”

চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ শাহাদাৎ হুসাইন এবাদত জানান, নির্বাচিত হলে তিনি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। রাস্তাঘাট, বীজ-কালভার্ট নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষি ও সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বেকার যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, “সরকারি বরাদ্দ, ভিজিএফ, ভিজিডি, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।” সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বাল্যবিবাহমুক্ত করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত:
মোঃ শাহাদাৎ হুসাইন এবাদত জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ১নং বাগজানা ইউনিয়নের কুটাহারা গ্রামের সরদারপাড়ার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোঃ মিজানুর রহমান এলাকায় একজন সৎ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

তিনি ঘোড়াপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পরে বাগজানা আছিরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। এরপর দিবাকরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এবং ২০১২ সালে হাকিমপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শিক্ষাজীবনে বিঘ্ন ঘটে। তবে তিনি থেমে থাকেননি; পরবর্তীতে জয়পুরহাট সরকারি কলেজ থেকে ২০১৯ সালে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স (বিএসএস) ডিগ্রি অর্জন করেন।

নিজের রাজনৈতিক ও আদর্শিক জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার ইসলামী মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, মানবসেবা ও ইনসাফের শিক্ষা ইসলামী ছাত্রশিবির থেকেই পাওয়া। কৈশোর ও যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে ছাত্রশিবির আমাকে চরিত্র গঠন, নেতৃত্ব এবং মানুষের জন্য কাজ করার শিক্ষা দিয়েছে।”

তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং সর্বশেষ বাগজানা ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ঘুষ ও অর্থ লেনদেনের সংস্কৃতির সঙ্গে আপস না করে তিনি ব্যবসাকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন।

তিনি বলেন, “হারাম উপার্জন থেকে নিজেকে দূরে রাখার অঙ্গীকার নিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে ব্যবসা শুরু করি। মহান আল্লাহ আমাকে হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, এজন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।”

২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগজানা ইউনিয়ন শাখার সহকারী সেক্রেটারি এবং যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা একজন সৎ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি প্রত্যাশা করছেন। অনেকের মতে, যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে বাগজানা ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নেবে।