০৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ ৫ই জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রতিবেদন

  • প্রকাশের সময় : ০৮:২১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • 89

ছবিঃ সংগৃহীত

​প্লাস্টিক দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা: অস্তিত্বের সংকটে আমাদের ধরিত্রী

​বিশেষ প্রতিবেদকঃ

৫ই জুন: আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে এবং প্রকৃতির সুরক্ষায় প্রতি বছর এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং কার্যকর পদক্ষেপের দাবি রাখে।

​আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে একদিকে তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে অসময়ের বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই সবকিছুর মূলে রয়েছে মানুষের তৈরি পরিবেশ দূষণ এবং প্রকৃতির ওপর অবিচার।

​বিপন্ন প্রকৃতি, সংকটে মানবজাতি
​শিল্পায়ন ও নগরায়ণের অন্ধ দৌড়ে আমরা ভুলে গেছি যে প্রকৃতিরও একটি সহনশীলতার সীমা আছে। অবাধে গাছ কাটা, নদী-নালা ভরাট করা এবং কলকারখানার বর্জ্য সরাসরি জলাশয়ে ফেলার কারণে আজ আমাদের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মুখে। বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যার ফলে বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। গলছে মেরু অঞ্চলের বরফ, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা—যার সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলো।

​প্লাস্টিক ও পলিথিনের আগ্রাসন
​আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক’ বা সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক। পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল ও মোড়ক আমাদের ড্রেন, খাল-বিল এবং নদীগুলোকে শ্বাসরোধ করে মারছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা সহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, তার অন্যতম প্রধান কারণ এই প্লাস্টিক বর্জ্য। এই প্লাস্টিক একসময় ভেঙে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ বা অতি ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হচ্ছে, যা মাছ ও ফসলের মাধ্যমে সরাসরি আমাদের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছে। ফলস্বরূপ, ক্যানসারের মতো মারাত্মক ব্যাধি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে।

​এক নজরে পরিবেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ:
​বন উজাড়: নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে কমছে অক্সিজেনের মাত্রা, বাড়ছে তাপমাত্রা
​বায়ু দূষণ: মেগা সিটিগুলোর বাতাস এখন বিষাক্ত, যা ফুসফুসের নানা রোগের কারণ।
​প্লাস্টিক দানব: নদী ও সাগরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মূল কারিগর।

​ভূগর্ভস্থ পানির অপচয়: পানির স্তর নেমে যাওয়ায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।
​আমাদের করণীয়: এখনই সময় রুখে দাঁড়ানোর ​শুধুমাত্র সরকারের আইন বা আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন গণসচেতনতা এবং ব্যক্তিগত অভ্যাস পরিবর্তন। পরিবেশ রক্ষায় আমরা প্রত্যেকেই কিছু ছোট কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারি:
​১. সবুজায়ন: “একটি গাছ কাটলে অন্তত দুটি গাছ লাগান”—এই নীতি শুধু মুখে নয়, বাস্তবে রূপান্তর করতে হবে। ছাদবাগান বা ঘরের কোণে গাছ লাগিয়েও আমরা অবদান রাখতে পারি।
২. প্লাস্টিককে ‘না’ বলা: বাজারে যাওয়ার সময় চটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্র পুনর্ব্যবহার (Recycle) করতে হবে।
৩. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। পচনশীল এবং অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার অভ্যাস করতে হবে।
৪. পানির অপচয় রোধ: ব্রাশ করার সময় বা অজু করার সময় পানির কল অনর্থক ছেড়ে না রাখা।

​শেষ কথা
​পৃথিবী নামক এই গ্রহটি আমাদের একমাত্র বাসস্থান। একে ধ্বংস করার অর্থ নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক বাস-অযোগ্য, তপ্ত ও বিষাক্ত পৃথিবীর দিকে ঠেলে দেওয়া। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অঙ্গীকার হোক—আমরা প্রকৃতিকে আর ধ্বংস করব না, বরং একে আগলে রাখব। আসুন, আজ থেকেই নিজের ঘর, নিজের এলাকা পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার শপথ নিই। প্রকৃতি বাঁচলে, বাঁচবে দেশ; সুরক্ষিত হবে আমাদের ভবিষ্যৎ।

জনপ্রিয়

ক্ষেতলালে প্রেমিকের বাড়িতে এক সন্তানের জননীর অবস্থান ৷৷ বিয়ের দাবিতে আত্মহত্যার হুমকি

আজ ৫ই জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রতিবেদন

প্রকাশের সময় : ০৮:২১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

ছবিঃ সংগৃহীত

​প্লাস্টিক দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা: অস্তিত্বের সংকটে আমাদের ধরিত্রী

​বিশেষ প্রতিবেদকঃ

৫ই জুন: আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে এবং প্রকৃতির সুরক্ষায় প্রতি বছর এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং কার্যকর পদক্ষেপের দাবি রাখে।

​আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে একদিকে তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে অসময়ের বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই সবকিছুর মূলে রয়েছে মানুষের তৈরি পরিবেশ দূষণ এবং প্রকৃতির ওপর অবিচার।

​বিপন্ন প্রকৃতি, সংকটে মানবজাতি
​শিল্পায়ন ও নগরায়ণের অন্ধ দৌড়ে আমরা ভুলে গেছি যে প্রকৃতিরও একটি সহনশীলতার সীমা আছে। অবাধে গাছ কাটা, নদী-নালা ভরাট করা এবং কলকারখানার বর্জ্য সরাসরি জলাশয়ে ফেলার কারণে আজ আমাদের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মুখে। বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যার ফলে বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। গলছে মেরু অঞ্চলের বরফ, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা—যার সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলো।

​প্লাস্টিক ও পলিথিনের আগ্রাসন
​আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক’ বা সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক। পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল ও মোড়ক আমাদের ড্রেন, খাল-বিল এবং নদীগুলোকে শ্বাসরোধ করে মারছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা সহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, তার অন্যতম প্রধান কারণ এই প্লাস্টিক বর্জ্য। এই প্লাস্টিক একসময় ভেঙে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ বা অতি ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হচ্ছে, যা মাছ ও ফসলের মাধ্যমে সরাসরি আমাদের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছে। ফলস্বরূপ, ক্যানসারের মতো মারাত্মক ব্যাধি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে।

​এক নজরে পরিবেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ:
​বন উজাড়: নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে কমছে অক্সিজেনের মাত্রা, বাড়ছে তাপমাত্রা
​বায়ু দূষণ: মেগা সিটিগুলোর বাতাস এখন বিষাক্ত, যা ফুসফুসের নানা রোগের কারণ।
​প্লাস্টিক দানব: নদী ও সাগরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মূল কারিগর।

​ভূগর্ভস্থ পানির অপচয়: পানির স্তর নেমে যাওয়ায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।
​আমাদের করণীয়: এখনই সময় রুখে দাঁড়ানোর ​শুধুমাত্র সরকারের আইন বা আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন গণসচেতনতা এবং ব্যক্তিগত অভ্যাস পরিবর্তন। পরিবেশ রক্ষায় আমরা প্রত্যেকেই কিছু ছোট কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারি:
​১. সবুজায়ন: “একটি গাছ কাটলে অন্তত দুটি গাছ লাগান”—এই নীতি শুধু মুখে নয়, বাস্তবে রূপান্তর করতে হবে। ছাদবাগান বা ঘরের কোণে গাছ লাগিয়েও আমরা অবদান রাখতে পারি।
২. প্লাস্টিককে ‘না’ বলা: বাজারে যাওয়ার সময় চটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্র পুনর্ব্যবহার (Recycle) করতে হবে।
৩. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। পচনশীল এবং অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার অভ্যাস করতে হবে।
৪. পানির অপচয় রোধ: ব্রাশ করার সময় বা অজু করার সময় পানির কল অনর্থক ছেড়ে না রাখা।

​শেষ কথা
​পৃথিবী নামক এই গ্রহটি আমাদের একমাত্র বাসস্থান। একে ধ্বংস করার অর্থ নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক বাস-অযোগ্য, তপ্ত ও বিষাক্ত পৃথিবীর দিকে ঠেলে দেওয়া। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অঙ্গীকার হোক—আমরা প্রকৃতিকে আর ধ্বংস করব না, বরং একে আগলে রাখব। আসুন, আজ থেকেই নিজের ঘর, নিজের এলাকা পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার শপথ নিই। প্রকৃতি বাঁচলে, বাঁচবে দেশ; সুরক্ষিত হবে আমাদের ভবিষ্যৎ।