০৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কালাইয়ে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু

  • প্রকাশের সময় : ০৪:৩৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • 2

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই — মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ

জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ), স্টাফ রিপোর্টার | কালাই (জয়পুরহাট), ২৬ জুলাই ২০২৬

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৪টায় জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই সরবরাহ করে না; এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি মানুষ যদি বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়, তবে দেশ আরও সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, এমপি বলেন, “গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারকে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া।
মেলায় বন বিভাগ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় নার্সারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অংশগ্রহণ করেছে। ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার মূল লক্ষ্য পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং দেশব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করা।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

এর আগে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের শমশিরা গ্রামে তাঁর নানা-নানির কবর জিয়ারত করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিপুল কুমার, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুল হক, কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, ২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত এ তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলায় সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা সংগ্রহ, প্রদর্শনী পরিদর্শন এবং পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং সবুজ, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার জাতীয় উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।

জনপ্রিয়

সাপাহারে বিভিন্ন মামলার ৬ আসামিকে আদালতে প্রেরণ

কালাইয়ে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু

প্রকাশের সময় : ০৪:৩৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই — মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ

জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ), স্টাফ রিপোর্টার | কালাই (জয়পুরহাট), ২৬ জুলাই ২০২৬

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৪টায় জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই সরবরাহ করে না; এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি মানুষ যদি বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়, তবে দেশ আরও সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, এমপি বলেন, “গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারকে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া।
মেলায় বন বিভাগ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় নার্সারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অংশগ্রহণ করেছে। ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার মূল লক্ষ্য পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং দেশব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করা।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

এর আগে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের শমশিরা গ্রামে তাঁর নানা-নানির কবর জিয়ারত করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিপুল কুমার, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুল হক, কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, ২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত এ তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলায় সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা সংগ্রহ, প্রদর্শনী পরিদর্শন এবং পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং সবুজ, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার জাতীয় উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।