০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

কালাইয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় স্থান নির্ধারণে মাঠ পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ও কৃষি সচিব

  • প্রকাশের সময় : ০২:২১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • 26

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ) স্টাফ রিপোর্টার: ২৫ জুলাই ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল (Agro Export Zone) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, এমপি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল-ই-মোহাম্মদ।

তারা কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বামনাহানি মৌজায়, জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের উত্তর পাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পরিদর্শন করেন। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১০০ একর (প্রায় ৩০০ বিঘা) জমির ওপর কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ, জয়পুরহাটের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাট দেশে আলু উৎপাদনের অন্যতম প্রধান অঞ্চল। প্রতিবছর জেলায় গড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। এর মধ্যে শুধু কালাই উপজেলাতেই প্রায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ করা হয়। উৎপাদিত আলুর প্রায় ৩০ শতাংশ জেলার ১৯টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সংকুচিত হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলুচাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উৎপাদন খরচ ও সংরক্ষণ ব্যয় বাড়লেও বাজারমূল্য কম থাকায় অনেক কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে অনেকেই আলু চাষে আগ্রহ হারাতে শুরু করেছেন।

রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, একসময় বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আলু বিদেশে রপ্তানি হলেও গত কয়েক বছরে তা অনেকটাই কমে গেছে। আগে আলু রপ্তানিতে সরকার ২০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিলেও বর্তমানে তা ১০ শতাংশে নেমে আসায় রপ্তানিকারকদের আগ্রহ কমেছে। তাদের মতে, রপ্তানি প্রণোদনা বৃদ্ধি, আধুনিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা এবং কৃষিপণ্যভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে পারলে কৃষক ও রপ্তানিকারক—উভয়ই লাভবান হবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে আলুকেন্দ্রিক কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল গড়ে উঠলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কালাইয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে আলু, ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই প্রকল্প।

জনপ্রিয়

সাপাহারে বিভিন্ন মামলার ৬ আসামিকে আদালতে প্রেরণ

কালাইয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় স্থান নির্ধারণে মাঠ পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ও কৃষি সচিব

প্রকাশের সময় : ০২:২১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ) স্টাফ রিপোর্টার: ২৫ জুলাই ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল (Agro Export Zone) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, এমপি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল-ই-মোহাম্মদ।

তারা কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বামনাহানি মৌজায়, জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের উত্তর পাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পরিদর্শন করেন। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১০০ একর (প্রায় ৩০০ বিঘা) জমির ওপর কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ, জয়পুরহাটের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাট দেশে আলু উৎপাদনের অন্যতম প্রধান অঞ্চল। প্রতিবছর জেলায় গড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। এর মধ্যে শুধু কালাই উপজেলাতেই প্রায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ করা হয়। উৎপাদিত আলুর প্রায় ৩০ শতাংশ জেলার ১৯টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সংকুচিত হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলুচাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উৎপাদন খরচ ও সংরক্ষণ ব্যয় বাড়লেও বাজারমূল্য কম থাকায় অনেক কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে অনেকেই আলু চাষে আগ্রহ হারাতে শুরু করেছেন।

রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, একসময় বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আলু বিদেশে রপ্তানি হলেও গত কয়েক বছরে তা অনেকটাই কমে গেছে। আগে আলু রপ্তানিতে সরকার ২০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিলেও বর্তমানে তা ১০ শতাংশে নেমে আসায় রপ্তানিকারকদের আগ্রহ কমেছে। তাদের মতে, রপ্তানি প্রণোদনা বৃদ্ধি, আধুনিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা এবং কৃষিপণ্যভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে পারলে কৃষক ও রপ্তানিকারক—উভয়ই লাভবান হবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে আলুকেন্দ্রিক কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল গড়ে উঠলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কালাইয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে আলু, ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই প্রকল্প।