
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
বগুড়া প্রতিনিধি:
১৮ আগস্ট ২০২৬
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদে বগুড়ায় সাত আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের বগুড়া ইউনিটের সঙ্গে সম্পৃক্ত এসব আইন কর্মকর্তা। তারা বগুড়া জজ কোর্টে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
পদত্যাগকারীরা হলেন—অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শাফিকুর রহমান শাফি, অতিরিক্ত জিপি অ্যাডভোকেট এমদাদুল ইসলাম, এপিপি অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিৎ ও অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান সবুজ।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন ল’ইয়ার্স কাউন্সিল বগুড়া ইউনিটের সভাপতি অ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম আকন্দ, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক, অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দীন সাইফুল, অ্যাডভোকেট দলিলুর রহমান ও অ্যাডভোকেট আল-আমিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শাফিকুর রহমান শাফি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের বিরোধিতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচারপতি নিয়োগে সরকার ও সরকারি দলের প্রভাব আবারও জুলাই-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শাফিকুর রহমান বলেন, এসব ঘটনা সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিবেকের তাড়নায় আইন কর্মকর্তার পদে থেকে দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর বগুড়া জজ কোর্টে এসব আইনজীবী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।


























