
ছবিঃ সংগৃহীত
বিশেষ প্রতিনিধি, জয়পুরহাট
২৬ মে, ২০২৬
৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো জয়পুরহাটেও রাজনীতির চেনা সমীকরণ বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি ‘দখল আর চাঁদাবাজি’র সংস্কৃতি। অতীতে যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির ‘ব্র্যান্ড’ চালু ছিল, বর্তমানে কেবল তার নাম ও হাতবদল হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। হাট-ঘাট, মাঠ কিংবা পুকুর—সবখানেই চলছে এক অদৃশ্য জাদুকাঠির ছোঁয়া, যা রাতারাতি একশ্রেণীর নেতা-কর্মীকে ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ বানিয়ে দিচ্ছে।
রাজনীতিতে ‘জনসেবা’র আড়ালে পদ-পদবী, বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য এবং বড় বড় প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এই প্রতিযোগিতা এখন রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য কোন্দলে। জয়পুরহাটের নতুনহাটের পশুর হাটের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোক্তাদুল হক আদনানের ওপর হামলা সেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অবৈধ আয়ের ভাগাভাগির কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
এক আজব খেলা: একই দলের কর্মী, তারাই চালক, তারাই আবার ভুক্তভোগী
জয়পুরহাটের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে স্থানীয় সচেতন মহল ব্যাখ্যা করছেন এক ‘আজব খেলা’ হিসেবে। নতুনহাট পশুর হাটকে কেন্দ্র করে যে চিত্রটি সামনে এসেছে তা হলো—হাট চালাচ্ছে একদল কর্মী, অতিরিক্ত টোল বা চাঁদা তুলছে তারাই, আবার তাদেরই দলের আরেকটি অংশ এর বিরোধিতা করছে। ফলশ্রুতিতে হামলা, পাল্টা মামলা ও হাঙ্গামা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ক্ষমতা ও অর্থের এই দৌড়ে কারোর সম্পদ কমছে না, বরং জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ এই বিশৃঙ্খলার যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
ঘটনার সূত্রপাত: নতুনহাট পশুর হাট ও আদনানের ওপর হামলা
গত সোমবার বিকেলে জয়পুরহাট জেলা শহরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ নতুন করে চড়তে শুরু করে। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোক্তাদুল হক আদনানের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসী হামলা ও প্রাণনাশের চেষ্টার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে যুবদল নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, নতুনহাট পশুর হাটে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত টোল আদায় ও রসিদ জালিয়াতি চলছিল। সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মোক্তাদুল হক আদনানকে টার্গেট করা হয়। বক্তাদের দাবি, এই হামলার মূল হোতা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব শামস মতিন ও তার সহযোগী মামুনসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনের এই অস্থিরতা কেবল একটি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার সাথে জড়িত। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, হাট-ঘাটের দখলদারিত্ব এবং প্রকাশ্য হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যদি দলমত নির্বিশেষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে জয়পুরহাটে আইনের শাসন ভেঙে পড়তে পারে। সমাজকে বিশৃঙ্খলা থেকে বাঁচাতে সৎ ও যোগ্য মানুষদের সামনে আসা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।


















