১০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, গঙ্গাচড়ায় পানিবন্দি বন্যার্তমানুষ

  • প্রকাশের সময় : ০৫:০৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • 130

ছবিঃ সংগৃহীত

রংপুর প্রতিনিধিঃ বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫

উজানে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে আবারো তিস্তার পানি বিপদসীমা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তাবেষ্টিত চরাঞ্চলের নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষজন। তলিয়ে গেছে ধান ও সবজি খেত। লক্ষীটারী, কোলকোন্দ, নোহালী, গজঘণ্টা ও মর্নেয়া ইউনিয়নের নিচু এলাকার প্রায় ৪ শত পরিবারের মানুষজন পানিবন্দি হয়।

গত বুধবার (১৩ আগষ্ট) দুপুর ১২টায় গঙ্গাচড়ার উজানের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমা (৫২.১৫ সে.মি.) ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা সকাল ৬ টায় বিপদ সীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পশ্চিম ইচলীর কুমোবালা বলেন, আজ (বুধবার) সকাল থেকে বাড়িতে পানি উঠে। পানি উঠায় কষ্টে আছে। এর আগেও পানি উঠে দুদিন কষ্টে থাকলেও কোন সহায়তা পাইনি। সবায় ছবি তোলে আর কথা কয়া চলে যায়। লক্ষিটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী জানান, ইউনিয়নের পশ্চিম ইচলি, মধ্য ইচলি, পূর্ব ইচলি, জয়রাম ওঝা, শংকরদহ ও চল্লিশ সাল এলাকার মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

গজঘন্টা ইউপি চেয়ারম্যান (প্যানেল) বকুল মিয়া বলেন, ইউনিয়নের কালির চর, চর ছালাপাক ও চর রাজবল্লভ এলাকার বসবাসরত পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান (প্যানেল) শরিফুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নের বিনবিনা, শখের বাজার, খলাইর চর, মটুকপুর, আবুলিয়া, চিলাখাল এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় এসব এলাকার পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

মর্নেয়া ইউপি প্রশাসক মাহমুদুর রহমান জানান, ইউনিয়নের চর মর্নেয়া, নরসিংহ, রামদেব, কামদেব, নিলারপাড়া এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, ইউনিয়নের চর নোহালী, চর বাগডহরা, চর বৈরাতি, মিনার বাজার, ব্রিফ বাজার ও আশ্রয়ন বাজার এলাকার নিম্নাঞ্চলের পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সুইচ গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। তিস্তা তিরবর্তী মানুষজন সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

জনপ্রিয়

নওগাঁর সাপাহারে জমে উঠছে আমের বাজার, অপেক্ষা আম্রপালির

তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, গঙ্গাচড়ায় পানিবন্দি বন্যার্তমানুষ

প্রকাশের সময় : ০৫:০৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

ছবিঃ সংগৃহীত

রংপুর প্রতিনিধিঃ বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫

উজানে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে আবারো তিস্তার পানি বিপদসীমা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তাবেষ্টিত চরাঞ্চলের নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষজন। তলিয়ে গেছে ধান ও সবজি খেত। লক্ষীটারী, কোলকোন্দ, নোহালী, গজঘণ্টা ও মর্নেয়া ইউনিয়নের নিচু এলাকার প্রায় ৪ শত পরিবারের মানুষজন পানিবন্দি হয়।

গত বুধবার (১৩ আগষ্ট) দুপুর ১২টায় গঙ্গাচড়ার উজানের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমা (৫২.১৫ সে.মি.) ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা সকাল ৬ টায় বিপদ সীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পশ্চিম ইচলীর কুমোবালা বলেন, আজ (বুধবার) সকাল থেকে বাড়িতে পানি উঠে। পানি উঠায় কষ্টে আছে। এর আগেও পানি উঠে দুদিন কষ্টে থাকলেও কোন সহায়তা পাইনি। সবায় ছবি তোলে আর কথা কয়া চলে যায়। লক্ষিটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী জানান, ইউনিয়নের পশ্চিম ইচলি, মধ্য ইচলি, পূর্ব ইচলি, জয়রাম ওঝা, শংকরদহ ও চল্লিশ সাল এলাকার মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

গজঘন্টা ইউপি চেয়ারম্যান (প্যানেল) বকুল মিয়া বলেন, ইউনিয়নের কালির চর, চর ছালাপাক ও চর রাজবল্লভ এলাকার বসবাসরত পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান (প্যানেল) শরিফুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নের বিনবিনা, শখের বাজার, খলাইর চর, মটুকপুর, আবুলিয়া, চিলাখাল এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় এসব এলাকার পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

মর্নেয়া ইউপি প্রশাসক মাহমুদুর রহমান জানান, ইউনিয়নের চর মর্নেয়া, নরসিংহ, রামদেব, কামদেব, নিলারপাড়া এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, ইউনিয়নের চর নোহালী, চর বাগডহরা, চর বৈরাতি, মিনার বাজার, ব্রিফ বাজার ও আশ্রয়ন বাজার এলাকার নিম্নাঞ্চলের পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সুইচ গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। তিস্তা তিরবর্তী মানুষজন সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।