
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ ২৩ মে ২০২৬ ইং, শনিবার
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনের শাসন পৌঁছে দিতে এবং গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচবিবি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারিত হলরুমে “গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টিতে স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন” শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব কাশপিয়া তাসরিন। তিনি বলেন, “গ্রাম আদালত তৃণমূল পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। দ্রুত, সুলভ ও সহজে ন্যায়বিচার পেতে গ্রাম আদালতকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগই এ ক্ষেত্রে সফলতা আনবে।”
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন পাঁচবিবি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)জনাব মোঃ বেলায়েত হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ সামসুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব রহমান প্রধান।
আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা গ্রাম আদালত কর্মকর্তা মোঃ রাজিউর রহমান রাজু, উপজেলা কর্মকর্তা মোছাঃ নাসরিন আক্তার, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী আরিফুল ইসলাম, মহিপুর বিডি-২৭২ প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক দিপালী রায় এবং পাঁচবিবি প্রেসক্লাবের সম্পাদক সজল কুমার দাস।
কর্মশালায় বক্তারা গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলে আদালতের ওপর চাপ কমে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত প্রতিকার পায়। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় গ্রাম আদালত আইন, মামলা দায়ের প্রক্রিয়া, নিষ্পত্তির ধরণ ও স্থানীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দলীয় উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত প্রতিনিধিরা গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা গ্রাম আদালত সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন, যা সাধারণ মানুষকে ন্যায়বিচার পেতে সহায়ক হবে।



















