০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

​তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা অববাহিকায় নজিরবিহীন মহাবন্ধন ৷৷ বাজেট বরাদ্দের দাবি, অন্যথায় ঢাকা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

  • প্রকাশের সময় : ০৬:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • 39

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

​নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: ২০ জুন ২০২৬

তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে তিস্তা অববাহিকা। ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি’র উদ্যোগে শনিবার (২০ জুন) রংপুর মহানগরীসহ তিস্তা নদী তীরবর্তী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় একযোগে ব্যাপক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রংপুর মহানগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় থেকে শুরু করে শাপলা চত্বর পর্যন্ত প্রায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

​কর্মসূচিতে বক্তারা তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ভয়াবহ নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানিসংকট, এবং এর ফলে সৃষ্ট কৃষি ও জীবিকা সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তারা অবিলম্বে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ছাড়া শুধু প্রতিশ্রুতির রাজনীতি বন্ধ করে মাঠপর্যায়ে মহাপরিকল্পনার কাজ শুরুর জোর দাবি জানান।

​রংপুরের কাচারীবাজার পয়েন্টে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জনাব আব্দুল করিম সরকার বলেন, “তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্ভোগের কথা সবাই জানে। বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দেশের মানুষ এখন আর ফাঁকা আশ্বাস চায় না, সরাসরি প্রকল্পের কাজ দেখতে চায়। চলমান সংশোধিত বাজেটেই এই মেগা প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

​কাচারীবাজারের এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান আরিফ। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কমিটির উপদেষ্টা ও রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আযম খান, বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল রংপুর ইউনিটের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, এনসিপি নেতা আল মামুন, ডা. মো. হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট তারেকুজ্জামান তারেক, অ্যাডভোকেট উমর ফারুক ও আব্দুল মান্নান তালিবসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​একই সময়ে রংপুর মহানগরীর প্রেসক্লাব পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান মাজেদ। এছাড়াও এই পয়েন্টে শিক্ষাবিদ আবু বক্কর সিদ্দিক, আজহার আলী শাহ, আমিনুর রহমান, হাফিজ উদ্দিন, ফরহাদ হোসেন মণ্ডল, ইঞ্জিনিয়ার মামুন মিয়া, শাহনৎ মিয়া এবং ড. আজিজুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

রংপুর মহানগরী ছাড়াও তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গঙ্গাচড়ার বুড়িরহাট থেকে মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন রায়হান সিরাজী এমপি। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার শৈলমারী চর এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেন ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী এমপি ও আনোয়ারুল ইসলাম এমপি।

​অন্যদিকে, নীলফামারীর জলঢাকার কাকড়া এলাকা থেকে তিস্তা ব্যারেজ পর্যন্ত বিস্তৃত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুস সাত্তার এমপি, আল ফারুক আব্দুল লতিফ এমপি, ওবায়দুল্লাহ সালাফি ও আব্দুল মুনতাকিম এমপি। এছাড়া তিস্তা বাসস্ট্যান্ড থেকে তিস্তা সেতু পর্যন্ত তীব্র রোদ উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এমপি ও মাওলানা নুরুল আমিন এমপি।

মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা তিস্তা অঞ্চল পরিদর্শন করে নানা মধুর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এর ফলে তিস্তাপাড়ের মানুষের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছে।

​বক্তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, চলমান বাজেটের সংশোধিত বরাদ্দে যদি তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করা না হয়, তবে উত্তরাঞ্চলের জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে রংপুর বিভাগ থেকে রাজধানী ঢাকায় খাদ্যশস্য সরবরাহ বন্ধ এবং ‘ঢাকা ঘেরাও’ এর মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে সাধারণ মানুষ।

​তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সামগ্রিকভাবে সমগ্র উত্তরাঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীভাঙন চিরতরে রোধ এবং এই অঞ্চলের কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

জনপ্রিয়

সাপাহারে বিভিন্ন মামলার ৬ আসামিকে আদালতে প্রেরণ

​তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা অববাহিকায় নজিরবিহীন মহাবন্ধন ৷৷ বাজেট বরাদ্দের দাবি, অন্যথায় ঢাকা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

প্রকাশের সময় : ০৬:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

​নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: ২০ জুন ২০২৬

তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে তিস্তা অববাহিকা। ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি’র উদ্যোগে শনিবার (২০ জুন) রংপুর মহানগরীসহ তিস্তা নদী তীরবর্তী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় একযোগে ব্যাপক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রংপুর মহানগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় থেকে শুরু করে শাপলা চত্বর পর্যন্ত প্রায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

​কর্মসূচিতে বক্তারা তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ভয়াবহ নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানিসংকট, এবং এর ফলে সৃষ্ট কৃষি ও জীবিকা সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তারা অবিলম্বে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ছাড়া শুধু প্রতিশ্রুতির রাজনীতি বন্ধ করে মাঠপর্যায়ে মহাপরিকল্পনার কাজ শুরুর জোর দাবি জানান।

​রংপুরের কাচারীবাজার পয়েন্টে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জনাব আব্দুল করিম সরকার বলেন, “তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্ভোগের কথা সবাই জানে। বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দেশের মানুষ এখন আর ফাঁকা আশ্বাস চায় না, সরাসরি প্রকল্পের কাজ দেখতে চায়। চলমান সংশোধিত বাজেটেই এই মেগা প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

​কাচারীবাজারের এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান আরিফ। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কমিটির উপদেষ্টা ও রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আযম খান, বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল রংপুর ইউনিটের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, এনসিপি নেতা আল মামুন, ডা. মো. হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট তারেকুজ্জামান তারেক, অ্যাডভোকেট উমর ফারুক ও আব্দুল মান্নান তালিবসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​একই সময়ে রংপুর মহানগরীর প্রেসক্লাব পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান মাজেদ। এছাড়াও এই পয়েন্টে শিক্ষাবিদ আবু বক্কর সিদ্দিক, আজহার আলী শাহ, আমিনুর রহমান, হাফিজ উদ্দিন, ফরহাদ হোসেন মণ্ডল, ইঞ্জিনিয়ার মামুন মিয়া, শাহনৎ মিয়া এবং ড. আজিজুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

রংপুর মহানগরী ছাড়াও তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গঙ্গাচড়ার বুড়িরহাট থেকে মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন রায়হান সিরাজী এমপি। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার শৈলমারী চর এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেন ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী এমপি ও আনোয়ারুল ইসলাম এমপি।

​অন্যদিকে, নীলফামারীর জলঢাকার কাকড়া এলাকা থেকে তিস্তা ব্যারেজ পর্যন্ত বিস্তৃত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুস সাত্তার এমপি, আল ফারুক আব্দুল লতিফ এমপি, ওবায়দুল্লাহ সালাফি ও আব্দুল মুনতাকিম এমপি। এছাড়া তিস্তা বাসস্ট্যান্ড থেকে তিস্তা সেতু পর্যন্ত তীব্র রোদ উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এমপি ও মাওলানা নুরুল আমিন এমপি।

মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা তিস্তা অঞ্চল পরিদর্শন করে নানা মধুর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এর ফলে তিস্তাপাড়ের মানুষের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছে।

​বক্তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, চলমান বাজেটের সংশোধিত বরাদ্দে যদি তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করা না হয়, তবে উত্তরাঞ্চলের জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে রংপুর বিভাগ থেকে রাজধানী ঢাকায় খাদ্যশস্য সরবরাহ বন্ধ এবং ‘ঢাকা ঘেরাও’ এর মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে সাধারণ মানুষ।

​তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সামগ্রিকভাবে সমগ্র উত্তরাঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীভাঙন চিরতরে রোধ এবং এই অঞ্চলের কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।